কোন বিষয়ে ফ্রীল্যান্সিং করবো?

Share the Post

অনলাইনে আয় করবো কিভাবে, কোথায় করবো, কেন করবো, এর ভূত ভবিষ্যত কি, ফ্রিল্যন্সিং করতে কি কি লাগে, কত আয় করতে পারবো, কোন বিষয়ে ফ্রীল্যান্সিং করবো, বর্তমান  মার্কেটপ্লেসের পরিস্থিতি কেমন, ‍আউটসোর্সিং এ বাংলাদেশের জন্য কতটুকু সুযোগ, ফ্রিল্যান্সার হবার র্পূব শর্ত কি, ফ্রিল্যান্সার হবার পথে সমস্যাগুলো কি কি, ইত্যাদি নানা প্রশ্ন নতুনদের মনে আসাটাই স্বাভাবিক ।  নতুন, এমনকি ২ – ৩ বছর ধরে চেষ্টা করেও সিদ্ধান্ত আস্থির । কিছুই ঠিক করে উঠতে পারেননি ।  এই পোস্টটি তাদের জন্য ।

কোন বিষয়ে আউটসোর্সিং করবেন

চোখ বন্ধ করুন । ভাবুন ছোটকাল থেকে এই পর্যন্ত কোন কোন কাজ করতে ভালো লাগতো, কোন কাজ করতে ভালো লাগতো না, কোনটা করবার সুযোগ বা  পথ আর নেই ।

এরপর ভাবুন কোন কোন খেলাধুলা, পড়াশোনা করতে ভালো লাগতো । আপনার কি আঁকাআঁকি পছন্দ? নাকি অংক কষতে আরাম পান ?

আপনার রসবোধ কেমন? আপনি কি লিখতে পছন্দ করেন? ইংরেজিতে আগ্রহ কেমন?

আপনার আঁকাআঁকি পছন্দ হলে গ্রাফিক ডিজাইন করতেও ভালো লাগবে । এমনকি ওয়েব ডিজাইনও ।

অংক ভালো লাগলে কোডিং/প্রোগ্রামিং ভালো লাগতে পারে । এক্ষেত্রে ওয়েব এপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট । লেখালেখির বাতিক থাকলে আর্টিকেল রাইটিং বা ব্লগিং করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করবেন । ভালোও করতে পরেবেন । গেমস খেলতে উৎসাহ থাকলে গেমস নিয়ে কাজ করতে পারবেন ।

অনলাইনে আয়ের উৎস হিসেবে জনপ্রিয় মাধ্যমগুলো হলো গ্রাফিক ডিজাইন, আর্টিকেল রাইটিং বা ব্লগিং, ভিডিও ব্লগিং, অনলাইন মার্কেটিং, ওয়েব ডিজাইন, এনিমেশন বা মোশন গ্রাফিক্স, এস ই ও, এ্যাপ ও সফ্টওয়্যার ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রি, ইত্যাদি ।

সবগুলো শিখতে চাইলে কোনোটাই শিখতে পারবেন না, কথাটা যেমন আংশিক সত্য, আবার এও সত্য যে, একটা বিষয়ের সঙ্গে আরেকটি বিষয় সংশ্লিষ্ট । যেমন, এস ই ও করতে গেলে অনলাইন মার্কেটিং শিখছেন, বিনামূল্যে অনলাইন মার্কেটিং করতে গেলে আবার এস ই ও করতে হচ্ছে  । এস ই ও করতে গিয়ে বা মার্কেটিিং করতে গিয়ে দেখলেন আরও প্রোফেশনাল করতে গ্রাফিক ডিজাইন জ্ঞান লাগছে । কদাচিৎ বেসিক ওয়েব
ডিজাইন জানা থাকাও দোষের কিছুনা । নিজেকে স্থির করবার জন্য প্রথমদিকে যখন যেটা করতে ভালো লাগবে সেটাই শিখবেন । এতে বাড়তি স্কিল যোগ হবে। যেসব স্কিল আপনার প্রো-জীবনে কোনোনা কোন সময়
কাজে আসবে।  আবার এক্সপার্ট ওয়েব ডিজাইনার বা ডেভেলপার হতে গেলে গ্রাফিক ডিজাইন জানতে হবে ।

UI/UX ডিজাইনেও গ্রাফিক । ডাটা এন্ট্রির কাজ করতে গেলে আপনাকে MS Office এর এক্সেল, ওয়ার্ড, পাওয়ার পয়েন্ট, পিডিএফ ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি নখদর্পণে থাকতে হবে । আবার আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করতে গেলে অবশ্যই ইংরেজি দক্ষতা অর্জন করতে হবে ।

কোন বিষয়ে অনলাইনে আয় করবো বা ফ্রিল্যান্সিং  করবো?

আবার নির্দিষ্ট করে গ্রাফিক ডিজাইন নিয়ে করতে চাইলে গ্রাফিকের কোন অংশ নিয়ে কাজ করবেন সেটাও নির্ধারণ করতে হবে । প্রিন্ট ডিজাইন করতে চাইলে সেটাই ভালো করে শিখতে হবে ।  UI/UX ডিজাইন করতে চাইলে ওই দিকেই সময় দিতে হবে । ওয়েব ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রেও তাই, নির্দিষ্ট বিভাগ নির্বাচন করতে হবে ।

ব্লগিং করতে চাইলেও নির্দিষ্ট বিভাগ পছন্দ করতে হবে, সে বিষয়ে পড়াশোনা করতে হবে । শুধুমাত্র ফানি আর্টিকেল লিখতে চাইলেও যেমন পড়তে হবে, লাইফস্টাইল নিয়ে লিখতে চাইলেও জানতে হবে ।  লিখতে হবে ইউনিক । তারপর সময়ের পরিক্রমায় আপনা আপনি কত কি জানা হয়ে যাবে ।

কোন বিষয়ে ফ্রীল্যান্সিং করবো?

বুঝতেই পারছেন, কোনো শিক্ষাতেই লস নেই । তবে বেশি এলোপাথারি না ঘুরে একটা জায়গায় স্থির হওয়াটাই জ্ঞানের কাজ । তার জন্য আপনি কিছুদিন ঘাঁটাঘাঁটি করুন ।  ঘাঁটাঘাঁটি কোথায় করবেন? অবশ্যই গুগলে । গুগল আপনাকে সব উত্তর দিতে প্রস্তুত । এমনকি বাংলাতেও!

এই সূত্রটি অনুসরণ করুন –

Passion+Skill+freedom = Freelance

যেটাতে মজা পাবেন না তা না করাই ভালো । মজা তো তখনই পাবেন যখন সেই জগতে প্রবেশ করতে পারবেন, প্র্যাক্টিস করবেন ।  বুঝতে পারবেন । বুঝতে না পারলে কিছুই ভাল লাগবে না । স্থির হতেও পারবেন না। হতাশ হয়ে যাবেন । অন্যের কাজগুলো দেখে যখন হুবহু করতে পারবেন তখন আনন্দ পাবেন । ক্রিয়েটিভ তখনই হবেন, যখন আপনি দীর্ঘদিন অন্যকে অনুসরণ অনুকরণ করতে পারবেন । অতীতকে জেনে, তাঁকে সম্মান করে, ফলো করতে করতে করতে অন্যদেরকে অস্বীকার করতে শিখবেন । ক্রিয়েটিভিটি এমনি এমনি আসেনা ।  এটা চর্চার।

অল্প বিদ্যা ভয়ংকর হয়ে দাঁড়াবে । কিছু না শিখেই ইন্টারভিউ বোর্ডে মুখোমুখি হতে গিয়ে জাস্ট নিরুৎসাহিত হয়ে আসবেন । এ শুধু অনলাইন আয়ের ক্ষেত্রেই না, জীবনের নানা খাতেই এমন । সিনেমা বান্তে চাইলে যেমন ভালো সিনেমা দেখতে হবে, গান গাইতে চাইলেও তেমনি ভালো গান শুনতে হবে।   লেখক হতে চাইলে পড়তে হবে । কোনোকিছুই জন্ম থেকে আপনাআপনি তৈরি হয়ে আসেনা । তৈরি হতেও হয় । কোন বিষয়ে ফ্রীল্যান্সিং করবো । 

একজন সফল হয়েছে বলেই আমিও সফল হতে পারব, তেমনটি না । আবার আরেকজন সফল হয়নি বলে আমিও পারবনা, সেটাও না । আপনাকে আপনার শক্তির জায়গাটা খুঁজে বের করতে হবে ।   সবচে ভালো হয়, প্রথমদিকে আয়ের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে শিখতে থাকুন আর ভাবুন স্কিল ডেভেলপ করছেন । যা আপনার কর্মজীবনে বাড়তি স্কিল হিসেবেও যোগ করতে পারবেন । সিভি/রিজিউমের ওজন বাড়বে । চতুর ও বুদ্ধিমান রিক্রুটাররা এসব জানা লোকদের অগ্রাধিকার দেয়। যারা দেয়না আগামীতে দেবে।

আয়ের চিন্তা মাথা থেকে একেবারেই ঝেড়ে ফেলবেন না । এটা আপনার আত্মমোটিভেশন ।  আয়ের মুখ দেখার
জন্য উত্তেজিত যত বেশি হবেন ততো আপনার পতিত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে ।  মনে রাখবেন, আপনি যেই কাজ করবেন তা ভালোভাবে না জেনে কাজের বাজারে আবেদন করবেন না। তাতে আপনার ভবিষ্যৎ মার্কেটই নষ্ট হয়। বায়াররা সংশ্লিষ্ট দেশে কাজ দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে ।কোন বিষয়ে ফ্রীল্যান্সিং করবো

আমি এখানে ইতি নেতি আলোচনা করছি, যাতে সিদ্ধান্ত নিতে পর্যাপ্ত তথ্যের ইশারা পান ।মোটিভেশনাল ব্যাপারটা এমন-
আমি পারবোনা তাই বলিয়া তুমি পারিবে না কেন?
তুমি পারিবে, তাই বলিয়া আমি পারিব কেন?  কোন বিষয়ে ফ্রীল্যান্সিং করবো

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।