ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো?

Share the Post

 

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন

 

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন, কিন্তু ক্লিয়ার করে বলেন না কেউ। কাজ শিখতে গেলে নিজেই বুঝবেন আপনার ঘাটতিগুলো । ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো, কোথায় শিখবো, কেন শিখবো এসব যেমন আলাপ করা হয়েছে, তার সাথে ফ্রিল্যান্সিং এর ফাঁক ফোকর গুলো, সমস্যা-অন্তরায়গুলো বোঝা দরকার । এখানে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন, কি কি প্রয়োজন নাই, আবার কেন প্রয়োজন তা নিয়েও সহজ আলাপ হয়েছে।

সিদ্ধান্ত ও সিদ্ধান্তহীনতা 

অনলাইনে শত ধরনের ফ্রিল্যান্স কাজ রয়েছে । যেমন, ওয়েব ভেলপমেন্ট, এনিমেশন, গ্রাফিক ডিজাইন, আর্টিকেল ও কন্টেন্ট লেখা, ডিজিটাল মার্কেটিং তথা এসইও, এসইএম, গেমস/App সহ বিবিধ কাজ রয়েছে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ।  যেমন ফাইভার, ফ্রিল্যান্সার, আপওয়ার্ক ইত্যাদি । এত কাজ আর এত এত ওয়ার্কপ্লেস দেখে অনেকেই দোটানায় পড়ে যান । 

ফ্রিল্যান্সিং শেখার আগে কোন বিষয়ে ফ্রিল্যান্স করবো সেটা প্রথমে ঠিক করতে হবে । এর জন্য কিছুদিন সব বিভাগেই ঘুরেফিরে ঘাঁটাঘাঁটি করে যেতে হবে ।  যেটা ভালো লাগে এবং যে বিষয়ে চাহিদার তুলনায় প্রতিযোগিতা তুলনামূলক কম সেই বিষয়ে আউটসোর্সিং করতে হবে ।  যেমন ডিজিটাল মার্কেটিং ।  আগামীর বিশ্ব অনলাইন মার্কেটিং নির্ভর হয়ে উঠবে । আবার এনিমেশন বা প্রোগ্রামিং এ দক্ষ লোকের সংখ্যা খুব কম । সেখানেও সুযোগ তৈরি করে নেয়া যেতে পারে ।

এইভাবে সব বিভাগেই ঘেটেঘুটে এসে ভালোলাগা, সক্ষমতার সম্ভাবনা, স্কেল ইত্যাদি যাচাই বাছাই করেই না সিদ্ধান্ত নিন, কি কাজ করবেন।     

অনুসন্ধান দক্ষতা 

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবোএকটা সমস্যায় পড়েছেন, কিন্তু গুগলকে বলতেই পারলেন না কি সমস্যা, তাহলে তো হবেনা।  অনেকেই সার্চ কি-ওয়ার্ড খুঁজে পান না। কিন্তু এটা খুবই জরুরী। সময় বাঁচাতে চাইলে কি খুঁজছেন তা ক্লিয়ার করতে হবে গুগল বা ইউটিউবকে । সমস্যা ধরতে না পারা এক সমস্যা, সমস্যা ধরে তার সমাধান খুঁজতে না পারা আরেক সমস্যা । দুনিয়ার এমন কোনো সমস্যা নাই যার ব্যাখ্যা বনা সমাধান গুগলে খুঁজে পাওয়া যাবেনা। শুধু খুঁজতে জানতে হবে । Search Engine Result Page (SERP) সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে । ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো? 

তাড়াহুড়ো ও ধৈর্য 

অনলাইনে আয়ের অন্যতম সমস্যা তাড়াহুড়ো । ধৈর্য ধারণ করে কাজ শিখতে হবে আগে । তাড়াহুড়ো করলে হিতে বিপরীত হবার সম্ভাবনাই বেশি । যারা অল্প জানেন, তাঁরা মনে করেন, অনেক কিছুই শিখেছি, এবার করার পালা । কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন ।

আবার যারা একটু বেশি জানেন, তারা আসলে জানেন যে কি পরিমাণ জানিনা । এজন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কি জানেন না তা জানার জন্য প্রচুর পড়াশোনা, করতে হবে । খাটতে হবে । মনে রাখবেন, পৃথিবীর কোনো কাজই একদিনে সাফল্য আসেনা ।

গরুর খামার করতে গেলেও অপেক্ষা করতে হবে । গরুকে খাওয়াতে হবে, পালন করতে হবে, মোটাতাজা হবে, তারপর না মাংস হবে দুধেল হলে দুধ দেবে। বিনিয়োগ করতে হবে । কাজ না শিখেই ফাইভার ও আপওয়ার্কের মত মার্প্লেকেটসে বিড করা বা আবেদন করা একটি সমস্যা । যা কেবল নাকি বাংলাদেশ থেকেই বেশি করা হয়ে থাকে । এতে আমাদের দেশের সব ফ্রীল্যান্সারদেরই ক্ষতি হয় । ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। কোনো কাজে পরিপূর্ণ ভাবে স্পেসালিস্ট হয়ে তারপর ঝাপিয়ে পড়তে হবে। কাজ নেয়ার অনেক মাধ্যম আছে ।

ব্যয় ভার  

অনলাইনে আয়ের কথা সবাই ভাবি, আজকে ব্যয়ের কথা শুনে ভড়কে যাবেন না। যেকোনো বিষয়ে আয় করতে চাইলে গাঁটের কিছু পয়সা খরচ করতেই হয় । তবে সব খরচের বিকল্পও আছে । যা আপনি এসব করতে গিয়েই শিখবেন । 

সময়, শ্রম, মেধা আর কিছু অর্থও ব্যয় করতে হয় । একটা মোটামুটি মানের কম্পিউটার তো লাগেই । যারা ইউটিউবার হতে চান তাঁদের লাগবে ক্যামেরা, ট্রাইপড, মাইক্রোফন, আলো ইত্যাদি ।

আবার যারা ডিজাইনার হতে চান, তাঁদের লাগবে গ্রাফিক্স কার্ড, ডিজাইন রিসোর্স, কোর্স, ইত্যাদি । লাগতে পারে আপনার কাজগুলকে মার্কেটিং করতে বা বিক্রি করতে গেল একটা ভালো মানের এস ই ও ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট লাগবে। আবার যারা ওয়েব ডেভেলপার হতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রেও লাগবে কোর্স, সফটওয়্যার, প্লাগিন, ইন্টারনেটের বিল ইত্যাদি ।

তবে আশার কথা অর্থের প্রয়োজন হবে প্রোফেশনাল লেভেলে গিয়ে । তবে আগে থেকে সেসব ব্যবহার করতে পারলে বেশি উত্তম । যা আসলে তেমন খরচের মধ্যে পড়েনা । বড় যে ব্যয় সেটা হলো মেধা ও শ্রমের ব্যয় । যেমন এসইও করতে গেলে নানারকম পেইড ননপেইড টুল ব্যবহার করতে হবে । 

ভাষাজ্ঞান ও যোগাযোগ 

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক যে দুইটা ভাষা তা মোটামুটি না জানাটা একটা বড় সমস্যা ।  আমরা অনেকেই যুক্তি দেখাই ইংরেজি ভাষা জানিনা কিভাবে ফ্রী

ল্যান্সিং করব । আরে ভাই বাংলা ভাষাটাই তো ঠিকমত জানা হয়না। লিখতে গেলে কত অসঙ্গতি ধরা পড়ে । তো ইংরেজি কিভাবে করবো? ভাষার একটা ইউনিভার্সাল ঐক্য আছে। ওটা ধরতে পারলে সব ভাষাই পানির মত সহজ । সব ক্ষেত্রে অত ইংরেজি প্হরয়োজনও য় না। 

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগেই আয় নিয়ে দুশ্চিন্তা 

আয়ের চিন্তা ন্যাচারাল ক্রিয়েটিভিটি নস্যাৎ করে দেয় । আত্মার উৎফুল্লতা কমিয়ে দেয় । মানুষকে ভীতু করে তোলে । ভীতু হলেই মানুষ অপরাধ করে ।

আয়ের চিন্তা বেশি না করে একে প্রথমে প্রেম হিসেবে না নিলে সহজাত আগ্রহ, ধৈর্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় । প্যাশনকে ঘিরেই প্রোফেশনে জাম্প করতে হবে ।

অনেকেই কাজ করা তো দূর, শেখার আগেই পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ে মাথা ঘামায় । মনে রাখবেন, ফ্রীল্যান্স সাইটেই একটা একাউন্ট বা ওয়ালেট থাকবে।  আয় হলে টাকা হারিয়ে যাবার ভয় নাই । 

গাইডলাইন to ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো

ফ্রিল্যান্সিং শিখতে ও বাস্তব কাজ করার জন্য এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ । কাজ শেখার কালে নানা প্রশ্ন উদয় হতে পারে, কিছু সমস্যা আছে ওয়েবে সমাধান পাওয়া দুরূহ হয়ে ওঠে । তখন একজন অভিজ্ঞের অভাববোধ তৈরি হয় । কাউকে নক করেও পাওয়া যায়না । সবাই আয়ে ব্যস্ত । যদিও অনলাইনে ঘাঁটাঘাঁটির মাধ্যমে একটা শিখতে গিয়ে আরো কিছু শিখতে পারি । একবার এতে অভ্যাস্ত হয়ে গেলে আর বিড়ম্বনা

তৈরি হবেনা । নিজেই নিজের গাইডলাইন হতে পারব ।এইগুলোই প্রব্লেম । প্রথমে নির্দিষ্ট কাজগুলো সম্পর্কে আইডিয়া ও জ্ঞান অর্জন করতে হবে । যেমন এই আর্টিকেলে ডিজিটাল মার্কেটিং কি, কেন এসব নানা বিষয় সম্পর্কে টোটাল একটা ধারণা দেয়া আছে ।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো না শিখবো, এর জন কি কি প্এরয়োজন; এইসব নানামুখী প্ইরশ্ন আর সিদ্ধান্তহীনতা  মনের ভেতর আমারো চড়ে থাকতো।  সমস্যাগুলো আমি নিজেই ব্যক্তিগতভাবে ফেইস করেছি । সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বলা । মনের জোর আর অনুশীলন থাকলে লক্ষ্যে পৌঁছানো খুবই সম্ভব। যারা পৌঁছিয়েছেন তারা আমাদের মতই রক্ত-মাংসের মানুষ ।অবশ্যই এলিয়েন বা ফেরেশতা না।আরও অনেক কিছু লাগে, আস্তে আস্তে জানবেন সব । আর কি কি বুঝতে চান, জানতে চান, মন্তব্য করুন। আমার সাথে জানতে কমেন্ট, শেয়ার অথবা সাবস্ক্রাইব করুন । 

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।